1. admin@dailyfulbariasangbad.com : admin :
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মালেক সরকার এমপির ঈদ উপহার বিতরণ “উৎসর্গ ফাউন্ডেশন”এর উদ্যোগে অসহায় ৪৫পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অসহায় পরিবার এর মাঝে, ১৩নং ভবানীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ঈদ উপহার অসহায় ৭৫পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করলো ‘মানবতার সেবায় আমার ক’জন’ সংগঠন ফুলবাড়িয়ার রাধাকানাই বাজারে মোঃ সাইদুল ইসলাম এর নির্বাচনী গণসংযোগ রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামে প্রবাসী পরিবার মানবিক সংগঠনের ঈদ সামগ্রী নগদ অর্থ প্রদান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মসিক মেয়র টিটু ও কাউন্সিলররা ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া সমিতির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীয়া কলেজের স্মারকগ্রন্থ তর্জনীর মোড়ক উন্মোচন ৮ প্রহর ব্যাপী অখন্ড, শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান

ময়মনসিংহে সরকারী জমিতে হিজড়াদের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে মসজিদ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪
  • ১৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার (ফুলবাড়িয়া): ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে সরকারের জমিতে হিজড়াদের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে মসজিদ। সেখানে নিয়মিত ধর্মীও শিক্ষাসহ নামাজ আদায় করছেন হিজড়ারা। এতে স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর লোকজন। নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর কালিবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসবাস হিজড়াদের। সরকারের ৩৩টি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বসবাস করেন ৪০ জন হিজড়া।

গত ২৬ জানুয়ারী আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশেই হিজড়াদের জন্য ৩৩ শতাংশ জায়গায় মসজিদ ও কবরস্থানের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশন উম্মে সালমা তানজিয়া। পরে হিজড়ারা নিজেদের শ্রম ও অর্থে স্থাপন করেন টিনশেড মসজিদ। মসজিদের পুরোকাজ এখনো সম্পন্ন না হলেও রোজার তিনদিন আগে উদ্বোধন করা হয়। নিয়মিত নামাজ, তারাবি এবং ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণের জন্য হিজড়াদের পাশাপাশি মসজিদে আসছেন স্থানীয় মুসুল্লিরাও।

জয়িতা তনু হিজড়া বলেন, নিজেদের নির্মিত মসজিদে আমরা ধর্মীয় শিক্ষাসহ নামাজ আদায় করব এটা আমাদের স্বপ্ন ছিল। কারণ সাধারণ মসজিদে আমাদের নামাজ আদায় করতে দেয়া হয় না। আর মসজিদ নির্মাণে আমাদের জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বিভাগীয় কমিশনার। এছাড়াও হিজড়া কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আবদুর রহমান আজাদ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছি। এখানে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের পাঁচ লাইনে কমপক্ষে ৬০জন মানুষ হয়। তারাবি নামাজের পর আমরা হুজুরের কাছে আরবি শিক্ষাগ্রহন করি। আমরা আমাদের মসজিদের নাম দিয়েছি দক্ষিণ চর কালীবাড়ি আশ্রয়ন জামে মসজিদ।

হিজড়া কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আবদুর রহমান আজাদ জানান, দেশে এমন মসজিদ এই প্রথম। আগেও একটি শহরে মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদে তা আর হয়ে উঠেনি। দক্ষিণ চর কালীবাড়ি মসজিদের ইমাম আবদুল মোতালেব বলেন, আমরা সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। কারো সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ ধর্মে নেই। সমাজের আর দশজনের মতো হিজড়ারাও মানুষ। তারা যেহেতু ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নামাজ আদায় করতে চায় তাই তাদেরকে সহযোগিতা করা উচিৎ। তারা খুব আন্তরিক। এলাকাবাসীও তাদের পছন্দ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম বলেন, হিজড়াদের আচার-আচরণে অনেকে বিরক্ত হোন। কিন্তু অনেক দিন ধরে আমাদের এখানে বসবাসকারী হিজড়াদের আচার- আচরণে এমনটি লক্ষ্য করা যায়নি। তারা সামাজিক ভাবে সকলের সাথে বসবাস করছেন। তাদের নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করারও সুযোগ হয়েছে। ধর্মের প্রতি তাদের এমন আগ্রহ প্রশংসার দাবি রাখে। এ মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল মতিন বলেন, গত বিশ দিন ধরে আমি এ মসজিদে পাঁচওয়াক্ত নামাজের ইমামতি করছি। এতে হিজড়াসহ এলাকাবাসীও নামাজ পড়ছেন। ভালোই লাগে, মনে শান্তি পাই।

ময়মনসিংহ জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, হিজড়াদের মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে অবগত রয়েছি। তারা মসজিদে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করছেন এমন ভিডিও আমাকে পাঠিয়েছে। সুযোগ থাকলেই আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। মসজিদ নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ। আমরাও এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করবো।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনূস বলেন, হিজড়াদের সাথে স্থানীয়দের খুব একটা মেলবন্ধন ছিল না। তাই তারা মসজিদ নির্মাণে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর বেশ কয়েকবার আবেদন করেন। এছাড়াও আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশেই যেহেতু খাস জায়গা ছিল, সেহেতু বিভাগীয় কমিশনার স্যার নিজে গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করায় বিষয়টিকে সকলেই ভালো ভাবে নিয়েছে। আমরাও চাই সেখানে সকলেই যেনো সম্প্রীতি বজায় রেখে চলে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, সেখানকার হিজড়ারা প্রথম আমার কাছে আসে তাদেরকে স্থানীয়রা মসজিদে নামাজ পড়তে দেয় না এমন অভিযোগ নিয়ে। তারা চাচ্ছিল মসজিদ নির্মাণে তাদেরকে যেনো একটু জায়গা দেই, যেহেতু সেখানে খাস জায়গা রয়েছে তাই কিছু জায়গা দেয়া হয়েছে। পরে মসজিদ নির্মাণের জন্য নিজে টাকা না দিতে পারলেও আমার কথায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দুই লাখ টাকা দেয়। তা দিয়ে টিনশেড মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ধর্মের প্রতি হিজড়াদের আগ্রহ এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ ইমামদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কারণে কাজটি সহজেই সম্পন্ন করা গেছে। মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা বাড়ায় আজকে হিজড়ারা মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নামাজ আদায় করতে পারছে

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ দৈনিক ফুলবাড়ীয়া সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!